ব্রেকিং নিউজ

আতঙ্ক নয় সচেতনতার মাধ্যমেই সম্ভব প্রতিরোধ। করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত কোন জিজ্ঞাসা থাকলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের “স্বাস্থ্য বাতায়ন” এ গ্রামীণফোন গ্রাহকরা ফ্রি কল করুন ১৬২৬৩ নম্বরে। -করোনা ভাইরাসের আপডেট জানতে এখানে ক্লিক করুন-

সুজানগরে বোরো ফসল উৎপাদনে কৃষকের ভাগ্যের চাকা অচল

মোঃ ফিরোজ রানাঃ সুজানগর উপজেলায় বোরো ধান কাট শুরু হলেও দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়ছে না চাষিদের। সুজানগরে প্রকৃতিগত কারণেই বোরো ফসল চাষাবাদ এখন কৃষকের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিচ্ছে। তাছাড়া সম্প্রতি কয়েক দফা শিলা বৃষ্টি হওয়ায় কৃষক সর্বশান্ত হয়েছেন।

কৃষি কৃষকের ভাগ্যের চাকা সচল করলেও বর্তমানে সুজানগর উপজেলার ভায়না, সাতবাড়ীয়া, মানিকহাট, হাটখালী, সাগরকান্দি, আহম্মদপুর সহ ১০টি ইউনিয়নে বোরো ফসল উৎপাদনে কৃষকের ভাগ্যের চাকা আর সচল হচ্ছে না। অধিকাংশ কৃষক কৃষিতে ভাগ্যের পরিবর্তন করতে প্রতি বছর আশানুরূপ ফলন না পেয়ে লোকাশানের শিকার হয়ে ঋণের জালে বেশী জড়িয়ে গেছে। ঋণ পরিশোধ করতে অনেক কৃষক হিমশিম খাচ্ছেন। আবার অনেক কৃষক ঋণের বোঝা মাথা নিয়ে কাজের আশায় চলে গেছেন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরে। ফলে অনেকই বংশ পরমপরায় ধরে চলে আসা  এ পেশা পরিবর্তন করে অন্য কোন পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করছেন।

সুজানগর উপজেলার খয়রান গ্রামের কৃষক মজিদ হোসেন বলেন, লোকসান দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে। বছরে বছরে কৃষিতে লোকসান দিতে দিতে তিনি এখন আর ঋণের বোঝা শেষ করতে পারছেন না। তবুও বছরে বছরে তিনি বোরো ধান চাষাবাদ করেন লাভের আশায়। দিন দিন এ পেশা কৃষকের কাছে বোজা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষক কোন ভাবেই দাঁড়াতেই পারছেন না। চলতি বছর ২০১৯সালে দীর্ঘ খরা, শিলা বৃষ্টি, ইদুরে ধান কাটায় করাণে ধানে চিটা হওয়ায় জমি থেকে কৃষক ধান পাচ্ছেন কম পরিমানে।

সুজানগর প্রেসক্লাবের সভাপতি(ভারপ্রাপ্ত) শাহজাহান আলী মন্ডল জানান বছরের পর বছর এ অবস্থার মধ্যে কৃষক বোরো ধান চাষাবাদ করে উৎপাদন ব্যয় মিটাতে পারেছেন না বরং আরো বেশী করে ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছেন। ফলে কৃষক কৃষির ব্যয়বার মিটাতে পারছেন না উৎপাদিত বোরো ফসল থেকে। এ থেকে কৃষিতে দিন দিন অনিহা দেখা দিচ্ছে কৃষকদের মধ্যে।

সুজানগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ আলিম রিপন জানান একদিকে ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না, অন্যদিকে শ্রমিকরা ভাগে (ভাগালোতে) ধান না কাটায় নগদ টাকা দিয়ে শ্রমিক নিয়োগ করতে হচ্ছে। এ জন্য দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঋণ করতে হচ্ছে কৃষকদের। উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের বোনকোলা গ্রামের কৃষক  মকবুল হোসেন জানান  ৪০০টাকায় প্রতি মণ শুকনো ধান দেওয়ার শর্তে টাকা নিচ্ছেন দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। আর প্রতি কেদার ধান কাটানোর জন্য শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা।

সরজমিনে শনিবারে পৌরসভার খারপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায় কৃষক ধান কাটা মাড়াইড়ের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। সে সময় কথা হয় কৃষক মোফাজ্জল হোসেনের সাথে তিনি জানান, তিনি ৪ কেদার (১ কেদার সমান ৩০শতক) জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ করেছেন তা থেকে তিনি যে ধান পাবেন তা দিয়ে কোন রকম ধান কাটা শ্রমিক মজুরী পোষাতে পারবেন। তাই তিনি একটু কষ্ট হলেও নিজের জমির ধান কাটিয়েছেন। সে সময় কথা হয় অপর এক কৃষক মো.জাফর হোসেনের সাথে তিনি জানান, কষ্ট করে জমি রোপণ করেছেন জমিতে তাই লোকসান দিয়েও রোপণকৃত ধান কাটছেন তিনি। এ বিষয়ে  সুজানগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ময়নুল হক সরকার বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষকগণ কৃষি থেকে আশানুরূপ ফলন পচ্ছে না। চলতি বছর এ উপজেলার ৪হাজার ২শ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ করা হয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.