সুজানগরে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা, নিরসনে নৈতিক শিক্ষার উন্নয়ন দরকার বলে মনে করেন অনেকে
এম এ আলিম রিপনঃ সুজানগরে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী গত ৩ মাসে সুজানগর উপজেলায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছে ১১ জনের অধিক নারী পুরষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল্যবোধের অবক্ষয়, পারিবারিক কলহসহ নানা কারনে নিজের ওপর আস্থা হারানোর কারণেই এ ধরণের পথ বেছে নিচ্ছে মানুষ।
সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজিৎ দেবনাথ আত্মহত্যার প্রবনতা বাড়ার কারন হিসেবে সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা, যৌতুক-পারিবারিক নির্যাতন, সম্পর্কের জটিলতা ও অর্থনৈতিক সংকট সমস্যাকে উল্লেখ করেছেন। আর পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সচেতন হলেই কেবল আত্মহত্যার প্রবনতা রোধ করা সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি। এদিকে সুজানগরে আত্মহত্যার প্রবনতা বেড়ে যাওয়ায় উদিগ্ন হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
যারা আত্মহত্যার ইন্ধন ও প্ররোচনা যুগিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলেও মনে করেন তারা। পাবনা সহকারী পুলিশ সুপার (সুজানগর) সার্কেল ফরহাদ জানান সুজানগর উপজেলা ও আমিনপুর থানার আওতাধীন এলাকায় পুলিশের হিসেবে গত ৩ মাসে সুজানগরে আত্মহত্যার করছেন ১১ জন। আর আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী। এ বিষয়ে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের সহযোগি অধ্যাপক (দর্শন বিভাগ) বিষ্ণু পদ সরকার বলেন, যাহা পাওয়ার ইচ্ছা, তা পাচেছনা, সমাজের ওপার থেকে সম্পদটাকে কুক্ষিগত করা। যাদের টাকা আছে, তারা আরো টাকাওয়ালা হয়ে যাওয়া, গরীব আরো গরিব হয়ে যাওয়া আর আত্মহত্যার নিরসনের জন্য নৈতিক শিক্ষার উন্নয়ন, সমাজে শিক্ষাবৃদ্ধি এবং সম্পদ সঠিকভাবে বন্টন করার মধ্যে দিয়ে আত্মহত্যার প্রবনতা কমে আসবে। অন্যথায় এটা বাড়তে থাকবে বলে মনে করেন তিনি।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণী জানান মানষিক, পারিবারিক, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, ইভটিজিং, সিদ্ধান্ত হীনতা ও অপবাধসহ সইতে না পারার কারনে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে বলে মনে হয়। আর ইতিমধ্যে এর প্রবনতা কমাতে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বিভিন্ন স্থানে কাউন্সিলিং করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সাতবাড়ীয়া ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল বাছেত বাচ্চু বলেন বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্বপ্নের জগতে বসবাস করে। স্বপ্নের বাস্তবায়ন না হওয়ায় আত্মহত্যার প্রবনতা বেড়ে গেছে।
সুজানগর প্রেসক্লাবের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) শাহজাহান আলী মন্ডল বলেন ৫বছর আগের আত্মহত্যার পরিসংখ্যান, বর্তমান পরিসংখ্যান এক নয়। আত্মহত্যার বাড়ার মুল কারন, পাওয়া না পাওয়া এবং সামাজিক ও পারিবারিক অস্থিরতা। সুজানগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ্ আলিম রিপন জানান আঠারো বছরের আগে কাউকে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করতে না দেওয়া। প্রথমে পারিবারিকভাবে সচেতন হতে হবে। সমাজের সকল স্তরের মানুষকে আত্মহত্যার প্রবনতা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই আত্মহত্যার প্রবনতা কমে আসবে বলে মনে করেন তিনি।




No comments