ব্রেকিং নিউজ

আতঙ্ক নয় সচেতনতার মাধ্যমেই সম্ভব প্রতিরোধ। করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত কোন জিজ্ঞাসা থাকলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের “স্বাস্থ্য বাতায়ন” এ গ্রামীণফোন গ্রাহকরা ফ্রি কল করুন ১৬২৬৩ নম্বরে। -করোনা ভাইরাসের আপডেট জানতে এখানে ক্লিক করুন-

সুুদের টাকার ভার সইতে না পেরে গোপনে ভারত গমন


সুজনগরের বিভিন্ন  সুদখোরদের কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা নিয়ে সেই টাকা দিতে না পারায় গোপনে পরিবার পরিজন নিয়ে মঙ্গলবার রাতে ভারত পাড়ি জমিয়েছেন সুজানগরের নামকরা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিত মুদি ব্যবসায়ী শ্রী হরিপদ শাহা (খোকা শাহা) এর ছেলে শ্রী শ্যামপদ শাহা।
ভারত চলে যাবার আগের দিন সোমবার গোপনে সুজানগরের পৌর ভবন মার্কেটের তার নামের দোকানটি এবং নিজবাড়ীর ও বাজারের কিছু জমি স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নিকট বিক্রি করে দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান উক্ত শ্রী শ্যামপদ শাহা তার পৌরসভার কালিবাড়ি পাড়ার নিজবাড়ির ৪৫ শতক জমি ,দোকান ও বাজারের ১ শতক জমি সহ প্রায় কোটি টাকার সম্পদ নামে মাত্র ১৭ লক্ষ টাকায় বিক্রি করেন তিনি।
এরপর মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে শ্রী শ্যমপদ শাহা,তার স্ত্রী,ছেলে গৌতম কুমার শাহা সহ পরিবারের ৫জন সদস্য নিয়ে মাইক্রোবাস যোগে রওনা হয়ে এদিনই সকাল ৮টার দিকে বেনাপোল বর্ডার হয়ে ভারত পাড়ি জমান গোপনে। এদিকে শ্যামপদ শাহা স্থানীয় বিভিন্ন সুদখোরদের নিকট থেকে প্রতি এক লাখে মাসে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা লাভ দেবার কথা বলে প্রায় ২ কোটি টাকা নেন ।
আর সুজানগরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হওয়ায় অনেক সুদখোর আগ্রহ করেই সুদে টাকা চাওয়া মাত্রই শ্যামপদকে টাকা দিতেন। আর এই সুদ ব্যবসার সাথে স্থানীয় ভাল ব্যক্তি হিসাবে পরিচিতরা ও প্রভাবশালীরাই জড়িত বলে জানান স্থানীয় এক ব্যবসায়ী।
এদিকে শ্যমপদ শাহা ভারত চলে যাওয়ার খবর শুনে তার বাড়ি ও দোকান দখল করতে গেলে শুনতে পান সোমবার তিনি এসব কিছুই অন্য এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নিকট বিক্রি করে গেছেন। এদিকে সুজানগর অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড থেকেও ৩০ লক্ষ টাকা সিসি লোন নেন তিনি যা বর্তমানে সুদ সহ ৩৫ লক্ষ টাকা হয়েছে বলে জানান ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক হারুন বিন ছালাম। তিনি জানান যেহেতু আমরা নিয়ম মেনেই টাকা দিয়েছি এবং তার নামে ৪৫ শতক জমি ব্যাংকের নামে রয়েছে তাই আমাদের কোন সমস্যা হবেনা।
যিনি এই জমি ক্রয় করেছেন তিনিই আমাদের এই টাকা পরিশোধ করবেন। সুজানগরের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন পৌরসভার নন্দিতাপাড়া এলাকার এক ব্যক্তির নিকট থেকে ৮ লাখ, ভবানীপুর পুর্বপাড়া এলাকার এক ব্যক্তির নিকট থেকে ৪২ লাখ, চরভবানীপুর এলাকার এক ব্যক্তির নিকট থেকে ১২ লাখ, সুজানগর বাজারের এক সুদ ব্যবসায়ী সমিতির নিকট থেকে ৪৮ লাখ, স্থানীয় এক কলেজের প্রভাষকের নিকট থেকে ৩ লক্ষ সহ প্রায় ২৭ জনের নিকট থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা পর্যায়ক্রমে শ্যামপদ সুদে টাকা নিয়েছে।
আর এক সুদখোরেরা যখন তাকে এসে টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করত তখন আরেক সুদখোরের নিকট থেকে বেশি লাভ দেবার কথা বলে টাকা নিয়ে তাকে দিত এভাবেই তার উপর বাড়তে থাকে সুদের চাপ।
এদিকে অল্প টাকা খাটিয়ে বেশি লাভ করতে গিয়ে মাথায় হাত পড়েছে এ সকল সুদ কারবারিদের। অনেকে লোক লজ্জার কারণে প্রকাশ করছেনা আবার অনেক সুদখোর বলছেন তাদের সাথে শ্যামপদ এর শেয়ারে মুদি ব্যবসা ছিল। এদিকে এ ঘটনায় সুজানগরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন সুদখোরদের এবার উচিৎ শিক্ষা হয়েছে। শ্যামপদ শাহার আপন ভাই সুজানগরের মুদি ব্যবসায়ী শ্রী খোকা শাহা ও জীবন কুমার শাহা জানান রাতের আধারে কখন যে চলে গেলেন পরিবারের সকলকে নিয়ে আমরাও কিছু জানলাম না।

No comments

Powered by Blogger.