ব্রেকিং নিউজ

আতঙ্ক নয় সচেতনতার মাধ্যমেই সম্ভব প্রতিরোধ। করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত কোন জিজ্ঞাসা থাকলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের “স্বাস্থ্য বাতায়ন” এ গ্রামীণফোন গ্রাহকরা ফ্রি কল করুন ১৬২৬৩ নম্বরে। -করোনা ভাইরাসের আপডেট জানতে এখানে ক্লিক করুন-

ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে সুজানগরে ইট ভাটা ভেঙ্গে ফেলা হলো

পাবনার সুজানগর উপজেলার তাঁতীবন্দ ইউনিয়নের কামারদুলিয়া গ্রামে কৃষি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠা নতুন ইটভাটা ধ্বংস করে দিয়েছে সুজানগর উপজেলা প্রশাসন। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে উক্ত ইট ভাটার ক্লিন ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে ভেঙ্গে ফেলে ধ্বংস করা হয়। মঙ্গলবার উক্ত ইট ভাটায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজিৎ দেবনাথ।
এদিকে বিদ্যালয়ের পাশে কৃষি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠা এ ইটভাটা সহ অন্য ২টি ইটভাটার নির্মাণকাজও বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় কামারদুলিয়া গ্রামের সচেতন জনগোষ্ঠী, স্থানীয় কৃষকেরা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায় সরকারের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কৃষি জমিতে, আবাসিক এলাকায় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে ইটভাটা নির্মাণ করা নিষিদ্ধ। তাছাড়া নতুন ইটভাটা নির্মাণ করতে হলে পরিবেশ অধিদফতর ও জেলা প্রশাসনের ছাড়পত্র এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের ট্রেড লাইসেন্স লাগে। কিন্তু কোনো প্রকার বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ওই গ্রামে পাশাপাশি ৩টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আর এতে ভবিষ্যতে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি জনজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইট ভাটাগুলোর পাশে অবস্থিত কামারদুলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন বিদ্যালয়ের পাশে এ সকল ইটভাটা থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় চিন্তিত হয়ে পড়ে অভিভাবক সহ শিক্ষার্থীরা।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজিৎ দেবনাথ বলেন ইট প্রস্তুত ও ভাটা (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী কৃষি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বনভূমি,অভয়ারণ্য,জনবসতিপূর্ণ ও আবাসিক এলাকা ও বছরে একের অধিক উৎপাদিত ফসলী কৃষি জমিতে ইটভাটা স্থাপন করা নিষেধ রয়েছে। আর এই গ্রামটি যেহেতু জনবসতিপূর্ণ ও আবাসিক এলাকা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ কয়েকটি বড় নার্সারী রয়েছে তাই স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে এ ইটভাটা ধ্বংস করা হয়েছে। আর অন্য ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।

ধ্বংস করা ইটভাটার মালিক কোরবান আলী বলেন আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি আর আমার ইটভাটার অপর পাশে দুইটি সহ উপজেলার অন্য সকল ইটভাটার কার্যক্রম চলমান আছে কিন্তু অদৃশ্য কারণে উক্ত ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা। এছাড়া তিনি আরো বলেন, এই ইটভাটা ধ্বংস করার ফলে আমার ৫০ লক্ষ টাকার উপরে ক্ষতি সাধন হয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.