ব্রেকিং নিউজ

আতঙ্ক নয় সচেতনতার মাধ্যমেই সম্ভব প্রতিরোধ। করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত কোন জিজ্ঞাসা থাকলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের “স্বাস্থ্য বাতায়ন” এ গ্রামীণফোন গ্রাহকরা ফ্রি কল করুন ১৬২৬৩ নম্বরে। -করোনা ভাইরাসের আপডেট জানতে এখানে ক্লিক করুন-

সুজানগরে ক্রেতা-বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় জমে উঠেছে ফলদ বৃক্ষমেলা



এম এ আলিম রিপনঃ সুজানগরে জমে উঠেছে পাঁচদিন ব্যাপি ফলদ বৃক্ষমেলা। ক্রেতা-বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মাত্র তিনদিনেই মুখরিত হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গন। মেলার বিভিন্ন স্টলে সাজিয়ে রাখা দুর্লভ ফলজ, বনজ ও ফুলের নানাগাছের মধ্যে রয়েছে ভিন্নতা ও নতুনত্ব। ভিন্নতার সূত্র ধরেই মেলায় বিভিন্ন ধরণের গাছের দাম নেয়া হচ্ছে একেক রকমের। তবে মেলায় মাল্টা গাছটিকে ঘিরে ক্রেতাদের কৌতূহলের শেষ নেই।

মাল্টার এ গাছটি পাশা নার্সারির স্টলে শোভা পেয়েছে। স্টলের এক কর্মী বলেন, মেলায় সবার দৃষ্টি এখন গাছটির দিকে। গাছটি পরিচর্যার মাধ্যমে এ রূপে আনতে আমাদের অনেক সময় লেগেছে। এদিকে সুজানগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মেলায় আগত দর্শনার্থীদের বিনামূল্যে তথ্য সরবারহ, তথ্য গাইড প্রদান করা হচ্ছে। আর  প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে রাত আট পর্যন্ত চলে মেলার কার্যক্রম।

বিদ্যালয় ছুটির পর মেলায় গাছের চারা কিনতে আসা সুজানগর শহীদ দুলাল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহফুজা খাতুন বলেন মেলায় এসে খুব ভাল লাগছে এবং আমি এ মেলা থেকে একটি পেয়ারা ও একটি গোলাপ ফুলের চারা কিনেছি।

সাতবাড়ীয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল বাছেত বাচ্চু বলেন আমি আমার প্রতিষ্ঠানে লাগানোর জন্য মঙ্গলবার ২৫০০/= টাকা দিয়ে বিভিন্ন ধরণের গাছের চারা ক্রয় করেছি। দাম সাধ্যের মধ্যে হওয়ায় আগামীকাল আরো গাছের চারা এ মেলা থেকে কিনবো বলে আশা করছি।

সুজানগর প্রেসক্লাবের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) ও মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) শাহজাহান আলী মন্ডল জানান গত কয়েক বছর ধরে প্রতিবারই  মেলা আমি গাছের চারা কিনে থাকি এবং এবারেও বিভিন্ন ধরণের গাছের চারা কিনবো ।

সুজানগর উপজেলা কৃষি অফিসার ময়নুল হক সরকার জানান এ বছর মেলায় দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটছে বেশি। বিকেল নামলেই মানুষের ঢল নামে। অনেকেই তথ্য জানতে আসেন। আবার অনেকে নিজের জন্য কেউবা প্রিয়জনকে মেলা থেকে গাছ ক্রয় করে উপহার দিচ্ছেন। মালিকানাধীন নার্সারীর মালিকরা এবারের মেলায় বেশ কিছু বিরল ও দুর্লভ প্রজাতির গাছ এনেছেন বলেও জানান তিনি। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন নির্ধারিত অংকের টাকার গাছ বিক্রি হচ্ছে এমনটা নয়। তবে প্রথম দিনে যা বিক্রি হয়েছে তার তিনগুন বিক্রি হয়েছে গত দুইদিনে। প্রতিদিনই বিক্রির হার বেড়ে চলেছে। এভাবে বিক্রির ধারাবাহিকতা থাকলে তাদের বেশ ভালো ব্যবসা হবে বলেও জানান ব্যবসায়ীরা । উল্লেখ্য “পরিকল্পিত ফল চাষ যোগাবে পুষ্টি সম্মত খাবার” এ শ্লোগানে সুজানগরে গত রবিবার পাঁচ দিন ব্যাপি ওই ফলদ বৃক্ষ মেলার শুভ উদ্বোধন করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ মেলার শুভ উদ্বোধন করেন সুজানগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজিৎ দেবনাথের সভাপতিত্বে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান কল্লোল ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মর্জিনা খাতুন।

No comments

Powered by Blogger.