সুজানগরের ভবানীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিত্যক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান
এম এ আলিম রিপনঃ ভবন সংকটের কারণে সুজানগর পৌরসভার ৪০ নং ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান। যেকোন মুহূর্তে ভবনটি ধসে পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। বর্তমানে শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় তাদেরকে বিদ্যালয়ের পুরনো এ পরিত্যক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের পাশাপাশি একটি টিনসেড ঘরে পাঠদান করানো হচ্ছে। তবে এসব জায়গাতেও ঠাঁই মিলছে না বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের।
তাই বিদ্যালয়ের বারান্দাতেও চালানো হচ্ছে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম। জানা যায়, ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টি ৪ কক্ষ বিশিষ্ট ভবনটি নির্মাণোত্তর দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও অদ্যবধি সংস্কার করা হয়নি। ফলে ভবনটিতে মারাত্মক ফাটল ধরার পাশাপাশি অধিকাংশ জায়গা থেকে পলেস্তরা খসে রড বের হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ থেকে পানি চুইয়ে পড়ে। এত করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আর বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগ সময়ই কাটাতে হচ্ছে ভবন ধ্বসের ঝুঁকি নিয়ে আর এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছোটাছুটি করে।এছাড়া বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নেই কোনো নির্ধারিত শ্রেণিকক্ষও।
আরিফুল ইসলাম নামক এক অভিভাবক জানান আশপাশের অন্যান্য বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পড়াশুনার মান ভাল হওয়ায় এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। তবে ভবন সংকটের কারণে আমরা অভিভাবকেরা সঙ্কিত।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ বেগম বলেন বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৬৫জন এবং শিক্ষক রয়েছে ১২ জন।গত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায়ও শতভাগ পাশকরা সহ মোট ২৩ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পায়। তিনি আরো বলেন বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে অসংখ্যবার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কর্মকর্তারা এসে বিদ্যালয়ের অবস্থা দেখে এ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণাও করেন তারপরও বাধ্য হয়েই বিদ্যালয়ের মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে হচ্ছে ।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রাজা হাসান বলেন, বিদ্যালয়টি থেকে শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাস সহ মোট ২৩ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পায়। এ ছাড়া এই বিদ্যালয়ের ভবনটি ভোট কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাই এ স্কুলের আলাদা সুনাম রয়েছে। কখনও কোনো পরীক্ষার্থী কোনো পরীক্ষায় ফেল করেনি। তাই বিদ্যালয়ে একটি ভবন নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মিনা পারভিন জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবনের তালিকা পাঠিয়েছি। এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজিৎ দেবনাথ গত শনিবার বিদ্যালয়টি পরিদর্শনকালে পরিত্যক্ত ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান না করাতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেন।
এ বিষয়ে সুজানগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন জানান ইতিমধ্যে আমি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছি। এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে সুষ্ঠ পরিবেশে পড়াশুনা করার জন্য নতুন একটি ভবন অত্যান্ত জরুরী । আর্থিক বরাদ্দ পেলে এ বিদ্যালয়ে নতুন একটি ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে বলেও জানান উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন।




No comments