ব্রেকিং নিউজ

আতঙ্ক নয় সচেতনতার মাধ্যমেই সম্ভব প্রতিরোধ। করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত কোন জিজ্ঞাসা থাকলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের “স্বাস্থ্য বাতায়ন” এ গ্রামীণফোন গ্রাহকরা ফ্রি কল করুন ১৬২৬৩ নম্বরে। -করোনা ভাইরাসের আপডেট জানতে এখানে ক্লিক করুন-

সুজানগরে ভ্যাপসা গরমে ডায়রিয়ার প্রকোপ, হাসপাতালে বাড়ছে রুগীর সংখ্যা

এম এ আলিম রিপনঃ প্রচন্ড গরমের কারণে সুজানগরে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব  দেখা দিয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সুজানগর হাসপাতালে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই  ডায়রিয়া রোগীর চাপ সামলাতে  হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতল কর্তৃপক্ষ। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সুজানগরের এ হাসপাতালে  প্রতিদিন দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এ রুগীর সংখ্যা । শুক্রবার সুজানগর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় আক্রান্তদের মধ্যে দিনমজুর, স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। 

চিকিৎসকরা জানান ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে গরমে  বাইরের দূষিত পানি পানি, নষ্ট খাবার খাওয়া সহ নানা কারণে। আর গরমে  ডায়রিয়ার  ব্যাকটেরিয়ার প্রজনন  ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়, গরমে খাবার ও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় আর সেই পচা বাসি খাবার খেলে ডায়রিয়া হয়। এ কারণে শিশুরা যাতে বিশুদ্ধ পানি পান করে, সতেজ খাবার খায় এবং প্রতিবার খাবার আগে ভালভাবে হাত ধুয়ে নেয়-সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। এদিকে  ডায়রিয়া  আক্রান্তদের  অনেকে আমাশয়, টাইফয়েড জ্বরেও আক্রান্ত হচ্ছেন। রুগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সুজানগর হাসপাতালের চিকিৎকেরা। 

সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ রফিকুল হাসান জানান বর্তমানে এই হাসপাতালে ৭জন মেডিকেল অফিসার রয়েছেন আর এ সকল চিকিৎসকেরা হাসপাতালে ভর্তিকৃত এবং গরমের কারণে ডায়রিয়া সহ অন্যান্য রোগের কারণে আসা রুগীদের সাধ্যমত চেষ্টা করছেন সঠিক চিকিৎসাসেবা দিতে। এছাড়া তিনি আরো জানান শুধু সুজানগর হাসাপাতালেই নয় এই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অবস্থিত ৫০টি কমিউনিটি ক্লিনিক এর মাধ্যমেও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রুগীদের চিকিৎসাপত্র সহ প্রয়োজনীয়  ঔষধ প্রদান করা হচ্ছে। তিনি জানান ডায়রিয়া একটি  পানিবাহিত রোগ আর এ রোগ থেকে রেহাই পেতে বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের বিকল্প নেই। এছাড়া এপ্রিল -মে মাসে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেশি থাকে জুনের মাঝামাঝিতে স্বাভাবিক হয়ে যায়।

সুজানগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আর এম ও ডাঃ সেলিম মোরশেদ জানান  ডায়রিয়া নিয়ে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই  ওরস্যালাইন খেলেই ভাল হয়ে যায়। তবে সিভিয়ার  ডায়রিয়া হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবা নিতে হবে। মেডিকেল অফিসার সাদি হাসনাইন রকি বলেন এবারে সুজানগর হাসপাতালে গরমের কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে যে পরিমাণ রুগী হাসাপাতালে আসছে গত ৪ বছরের মধ্যে আমার চাকুরী জিবনে এর আগে কখনোই দেখিনি। এ সময় তিনি বলেন  ডায়রিয়া থেকে বাঁচতে  বেশি করে তরল  খাবার  যেমন ভাতের মাড়, চিড়ার পানি, ডাবের পানি খাওয়াতে হবে এবং সেই সাথে আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ টিউবয়েলের পানি খাওয়াতে হবে রুগীকে। মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান বাইরের খোলা শরবত বা অন্য কোন কোমল পানি পান করলে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত  হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আর এ কারণে গরমে বাইরের এগুলো না খাওয়াই ভাল।  

No comments

Powered by Blogger.