ব্রেকিং নিউজ

আতঙ্ক নয় সচেতনতার মাধ্যমেই সম্ভব প্রতিরোধ। করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত কোন জিজ্ঞাসা থাকলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের “স্বাস্থ্য বাতায়ন” এ গ্রামীণফোন গ্রাহকরা ফ্রি কল করুন ১৬২৬৩ নম্বরে। -করোনা ভাইরাসের আপডেট জানতে এখানে ক্লিক করুন-

সুজানগরে নিয়ম-নীতি না মেনে যত্রতত্রভাবে অবাধে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস


এম এ আলিম রিপনঃ সারাদেশে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে যখন একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে তখন সুজানগর উপজেলার আনাচে কানাচে সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করেই অবাধে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার। ওষুধের দোকান, মুদির দোকান, কাপড়ের দোকান, কীটনাশকের দোকান, খাবারের দোকান এমনকি পানের দোকানেও চলছে গ্যাস সিলিন্ডার বেচা কেনা। মার্কেটের ভিতরের চিপাগলি, বদ্ধস্থান, উন্মুক্তস্থান সকল স্থানেই চলছে এলপি গ্যাসের অবাধ বেচাকেনা। গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ব্যবহারের বিধান থাকলেও তা মানছেন না কোন বিক্রেতাই। এ কারণে বড় ধরণের দূর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

পাবনা জেলা বিস্ফোরক পরিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সরকারি বিধি মোতাবেক গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় স্থানে কমপক্ষে পাকা মেঝেসহ আধা পাকা ঘর, ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক সক্ষমতা-সংক্রান্ত লাইসেন্সসহ অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার এবং মজবুত ও ঝুকিমুক্ত সংরক্ষণাগার থাকতে হবে। একজন ব্যাবসায়ী ওই সব শর্ত পূরণ করলেই কেবল এলপি গ্যাস বিক্রয় নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন। লাইসেন্স ছাড়া কোন দোকানে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করা যাবে না। ২০০৩ সালের দাহ পদার্থ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কোন ব্যক্তি যদি লাইসেন্স না নিয়ে বিস্ফোরক দ্রব্যের ব্যবস্যা করে তার তিন বছরের কারাদ- ও অর্থদন্ডে দন্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। 

প্রয়োজনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সমস্ত মালামাল বাজেয়াপ্ত করা যাবে। কিন্তু এ আইন  মানছেন না বেশিরভাগ ব্যবসায়ীই। সরেজমিনে সুজানগর পৌর বাজার সহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ওষুধের দোকান, পানের দোকান, মুদি দোকান, ফার্নিচারের দোকান, ফটোকপির দোকান, ফ্ল্যাক্সিলোডের দোকানেও গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। রাস্তার পার্শ্বে রাখা এসব সিলিন্ডারের পাশ ঘেঁষেই চলছে দ্রুতগামী যানবাহন। কিন্তু এসব দোকানে নেই কোনো আগুন নির্বাপক যন্ত্র। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে নেই প্রতিকারের ব্যবস্থা।অনেক ব্যবসায়ী শুধু ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এ জ¦ালানির ব্যবসা চালাচ্ছে। জনবহুল কিংবা আবাসিক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এ ব্যবসার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে প্রতিনিয়ত। দেখার যেন কেউই নেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা  বলেন, এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে হলে বাধ্যতামূলক বিস্ফোরক লাইসেন্স, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ব্যবস্থা থাকতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া কেউ গ্যাস বিক্রি করতে পারবে না। বিস্ফোরক লাইসেন্স নিতে অনেক টাকা খরচ হয়। কিন্তু অবৈধ ব্যবসায়ীদের কারণে বৈধ ব্যবসায়ীদের বিক্রি কমে গেছে। শুধু তাই না নাজিরগঞ্জ বাজারের মো.মোশারফ নামক এক ব্যবসায়ী বগুড়ার মালিহা নামেরএকটি দোকানের লাইসেন্স দিয়ে অবৈধভাবে মালিহা-২ নাম দিয়ে অবৈধভাবে এ ব্যবসা করে যাচ্ছেন। তাই তিনি অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রয় বন্ধ করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আর্কষন করেন।

সুজানগর ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন ম্যানেজার মো.নজরুল ইসলাম বলেন, বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়া কোন দোকানি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে পারবে না।


সুজানগর প্রেসক্লাবের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) শাহজাহান আলী মন্ডল জানান প্রশাসনের তদারকি বাড়ানো হলেই কেবলমাত্র লাইসেসবিহীন গ্যাস সিলিন্ডারের এ ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব অন্যথায় নয়।

সুজানগর উপজেলা গ্যাস ডিলার মালিক সমিতির সভাপতি মকছেদ আলী বলেন লাইসেন্স বিহীন এলপিজি গ্যাস বিক্রি বন্ধ করার জন্য সমিতির পক্ষ থেকে রাজশাহী বিভাগ এর বিস্ফোরক পরিদর্শক বরাবর অভিযোগ দাখিল করার প্রক্রিয়া চলছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিৎ দেবনাথ বলেন, লাইসেন্স ছাড়া যেসব দোকানি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছে। খুব শীঘ্রই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

সুজানগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সুজানগর বাজার বণিক সমিতির যুগ্ন আহ্বায়ক শাহীনুজ্জামান শাহীন জানান যে সকল এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীর  বিস্ফোরক লাইসেন্স নেই সে সকল ব্যবসায়ীকে ইতিমধ্যেই দ্রুত সময়ের মধ্যে  লাইসেন্স করে নেবার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.