সুজানগর পৌরসভার সকল সেবা বন্ধ থাকায় চরম দূর্ভোগে বাসিন্দারা
এম এ আলিম রিপনঃ সরকারি রাজস্ব তহবিল হতে বেতন ভাতা প্রদান এবং চাকুরি থেকে অবসরে যাবার পর হতে বিধি মোতাবেক পেনশন প্রদানের দাবিতে গত ১৪ তারিখ হতে সুজানগর পৌরসভার সকল শ্রমিক কর্মচারি ও কর্মকর্তারা অনিদিষ্ট কালের জন্য ধর্মঘট পালন করছে। হঠাৎ করে এ ধরনের ধর্মঘটের ফলে সুজানগর পৌরসভার সকল প্রকার সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম দূর্ভোগের মধ্যে দিয়ে দিন অতিবাহিত করছে সুজানগর পৌর এলাকার বাসিন্দারা।বর্তমানে সুজানগর পৌর শহর এখন মষে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ইট, খোয়া, মশা, মাছি ময়লা আবর্জনা ও দূর্গন্ধে অতিষ্ঠ পৌরবাসী। এ অবস্থায় পৌরসভায় বসবাসকারী বাসিন্দা, পথচারী ও ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম বিপাকে।
পৌর শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন সুজানগর পৌর শাখার সভাপতি ও পৌর সচিব গোলাম নবী এবং সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম জানায়,উপরোক্ত দাবিতে দেশের সকল পৌরসভার শ্রমিক-কর্মচারিরা দীর্ঘদিন যাবত সরকারের কাছে আল্টিমেটাম দিয়ে স্ব- স্ব পৌরসভায় দফায় দফায় মিটিং,মানব বন্ধন,স্বারকলীপি প্রদানসহ নানা প্রকার কর্মসূচি পালন করা হয়। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের কর্তাব্যাক্তিরা দাবি মেটানোর ব্যাপারে আন্তুরিক না হওয়ায় বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পৌর শ্রমিক -কর্মচারি ফেডারেশনের আহবানে তারা লাগাতার সেবা প্রদান কার্যক্রম বন্ধ করে গত ১৪ তারিখ হতে ঢাকার প্রেস ক্লাবের সামনে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে শ্রমিক কর্মচারিদের টানা আন্দোলনের ফলে সুজানগর পৌরসভার সকল প্রকার নাগরিক সেবা বন্ধ রয়েছে। এ গুলোর মধ্যে রয়েছে জন্মনিবন্ধন, টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ, নাগরিক সনদ পত্র প্রদান বন্ধ, ময়লা আবর্জনা সহ পয়নিস্কাশন কাজ সম্পূর্ন রুমে বন্ধ থাকায় পৌর নাগরিকদের দূর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে। প্রায় ৩০ হাজার জনসংখ্যা অধ্যাষিত সুজানগর পৌরসভার সমস্থ’ এলাকায় ময়লা স্তুপ জমে রয়েছে। এগুলো পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ঊঠিয়ে না নেওয়ায় সমস্থ বাজারে পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। পৌর নাগরিকরা চলাচলের সময় প্রয়োজনে নাকে মুখে রুমাল দিয়ে বাজারে ঢুকে কেনাকাটা করছে।
পৌর এলাকার শফিকুল ইসলাম বাবু ও বিল্লাল হোসেন নামক দুই ব্যক্তি জানান ,কাঁচা বাজারের অলিগলি সহ পৌর বাজারের প্রধান সড়কের পাশগুলোতে ময়লার স্তুপ জমে চলাচল পথ বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। ময়লা গুলো অচিরেই পরিস্কার করা না হলে এগুলো আরো পচে গলে দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে।এতে করে জনসাধারন বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হতে পারে। পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, ময়লা আবর্জনা সড়কে জমে থাকায় দূর্গন্ধে সৃষ্টি হয়েছে। বসবাস করতে কষ্ট হচ্ছে। হাসপাতাল সড়কের ব্যবসায়ী মাসুদ রানা বলেন, শহরে ময়লা আবর্জনার ও দূর্গন্ধের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্য করা যাচ্ছে না। বেশ কিছু দিন ধরে শহরের প্রাণকেন্দ্রে ময়লা ইস্তুপ পড়ে থাকায় মশামাছি জন্ম নিয়েছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে হচ্ছে পৌরবাসীর। সুজানগর পৌরসভার কঞ্জারভেন্সি ইন্সপেক্টর হাসান উদ্দিন জানান দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্ম বিরতি চলবে।
অন্যদিকে প্রতিদিন শতশত ভুক্ত ভোগি নারী পুরুষ জন্মনিবন্ধন ও নাগরিক সনদ পত্র নেবার জন্য পৌর অফিসে গিয়ে তালাবদ্ধ দেখে খালি হাতে ফিরে আসছে। ভুক্তভোগি পৌর নাগরিকরা তাদের সেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পৌর মেয়রের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।





No comments