ব্রেকিং নিউজ

আতঙ্ক নয় সচেতনতার মাধ্যমেই সম্ভব প্রতিরোধ। করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত কোন জিজ্ঞাসা থাকলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের “স্বাস্থ্য বাতায়ন” এ গ্রামীণফোন গ্রাহকরা ফ্রি কল করুন ১৬২৬৩ নম্বরে। -করোনা ভাইরাসের আপডেট জানতে এখানে ক্লিক করুন-

সুজানগরে টানা বৃষ্টিতে রোপণকৃত মূলকাটা পেঁয়াজের ব্যাপক ক্ষতিসাধন


এম এ আলিম রিপনঃ সম্প্রতি বয়ে যাওয়া বন্যার ধকল কেটে উঠে সুজানগরের কৃষকেরা জমি চাষ করে মূলকাটা পেঁয়াজ রোপণ করেছেন, আবার অনেক কৃষকই মাঠের জমি প্রস্তুত করে পেঁয়াজ রোপণের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন। 

এরই মধ্যে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে হঠাৎ করেই গত বুধবার (২৩ অক্টোবর) রাত থেকে টানা কয়েকদিন বৃষ্টি শুরু হওয়ায় জমিতে রোপণকৃত পেঁয়াজের পচন ধরায়  ব্যাপক  আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন উত্তরাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদনকারী সুজানগর উপজেলার কৃষকেরা। 

শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) সুজানগর উপজেলার ভাঁয়না ইউনিয়নের চর বিশ্বনাথপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায় কৃষকের রোপনকৃত মূলকাটা পেঁয়াজের জমিতে পানি জমে রয়েছে। এ সময় স্থানীয় আব্দুল বারেক নামে এক কৃষক বলেন ৪২০০/=টাকা মণ হিসাবে ৭ মণ পেঁয়াজ কিনে ১ বিঘা জমিতে গত ৫দিন আগেই রোপণ করেছি। কিন্তু টানা এই বৃষ্টির ফলে জমির সকল পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে। এখন আর করার কিছুই নেই। 

উপজেলার চরভবানীপুর এলাকার কৃষক ইউনুস আলী জানান মূলকাটা পেঁয়াজ রোপন করার জন্য টাকা দিয়ে জমি চাষ করে প্রস্তুত করে রেখেছিলাম,কিন্তু হঠাৎ করেই টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আর পেঁয়াজ রোপন সম্ভব হবেনা। 

অপর কৃষক আকবর হোসেন জানান এ অঞ্চলের কৃষকেরা প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে অক্টোবর মাস পর্যন্ত নতুন মূলকাটা পেঁয়াজ জমিতে রোপন করে থাকে, কিন্তু এমনিতেই বন্যার কারণে এ বছর সঠিক সময়ে এই পেঁয়াজ রোপন করতে পারেনি কৃষকেরা। তারপর আবার যখন বন্যার ধকল কাটিয়ে উঠে জমি চাষাবাদ করে মাঠে মূলকাটা পেঁয়াজ রোপন শুরু করেছে ঠিক তখনই আবার টানা বৃষ্টি শুরু হওয়ায় মাঠের রোপণকৃত সকল পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। 

সুজানগর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহজাহান আলী জানান প্রতি বছর এই উপজেলার কৃষকেরা মূলকাটা পেঁয়াজ রোপনের ২ মাস পরেই ডিসেম্বরের ২য় সপ্তাহ থেকে আবার জমি থেকে তুলে বিক্রি করতো। কিন্তু এবারে বন্যার কারনে এমনিতেই কৃষকদের মাঠে পেঁয়াজ  রোপণ করতে দেরি  হয়েছে।তারপর আবার টানা বৃষ্টি শুরু হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকেরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লেন। 

সুজানগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ আলিম রিপন জানান অন্যান্য বছরের তুলনায় বর্তমানে এমনিতেই পেঁয়াজের দাম বেশি, তারপর আবার টানা এই বৃষ্টির কারণে জমিতে রোপণকৃত মূলকাটা পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আগামী দুই মাসের মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমার সম্ভবনা কম রয়েছে। 

সুজানগর উপজেলা কৃষি অফিসার ময়নুল হক সরকার জানান এ বছর সুজানগর উপজেলায় নতুন মূলকাটা পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল  প্রায় ১৮‘শ হেক্টর জমিতে । কিন্তু অসময়ে হঠাৎ করে টানা বৃষ্টিতে জমিতে রোপণকৃত পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় এবং পেঁয়াজ রোপনের জন্য প্রস্তুতকৃত অনেক জমিই পানি জমে যাওয়ায় হয়ত সেই লক্ষ্যমাত্রাটা অর্জিত নাও হতে পারে। 

No comments

Powered by Blogger.