সুজানগর ও চরতারাপুরের পদ্মায় চলছে ইলিশ শিকারের মহোৎসব
এম এ আলিম রিপনঃ ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সুজানগরের পদ্মায় মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হলেও নতুন কৌশলে ডিমওয়ালা ইলিশ শিকারে মেতে উঠেছেন অধিক মুনাফালোভী কতিপয় অসাধু জেলেরা।
তারা প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিতে কৌশলে ইলিশ শিকারের জন্য নদীতে ফেলে রাখা অবৈধ কারেন্ট জাল ডুবন্ত অবস্থায় ফেলে নদীর পাড়ে জালের রশি রেখে মা ইলিশ শিকার করছেন। ফলে ইলিশ প্রজনন মৌসুম হুমকির মুখে পরেছে।
নদীর পাড়ের একাধিক বাসিন্দাদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, গত বছরের চেয়ে এবছর জেলেরা ভিন্নকৌশল নিয়ে ডিমওয়ালা ইলিশ শিকার করছে। এবছর জেলেরা কৌশল পরিবর্তন করে একাধিক জাল নিয়ে ডিমওয়ালা ইলিশ শিকারে নদীতে নেমেছে। প্রশাসন নদী থেকে জাল জব্দ করে নিয়ে আসলেও পরবর্তীতে আবার নতুন জাল নিয়ে ইলিশ শিকার করা হচ্ছে।
এ কারণে আগামি ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে পদ্মা নদীতে যাত্রী ও মালামাল পরিবহন কারী নৌকা ছাড়া সকল ধরণের নৌকা চলাচল বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা। সুজানগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি শাহজাহান আলী জানান সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জেলেদের আটক ও জাল এবং মাছ জব্দ করার পাশাপাশি ইলিশ শিকারের কাজে ব্যবহার করা প্রতিটি নৌকা জব্দ করলে হয়তো অনেকটাই কমে আসবে মা ইলিশ শিকার।
সরেজমিনে সুজানগর উপজেলার সাতবাড়ীয়া, নাজিরগঞ্জ, মানিকহাট উইনিয়ন এবং পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নদী এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ডিমওয়ালা ইলিশ শিকারের মহোৎসব।
একদিকে প্রশাসন টহল দিচ্ছে অপরদিকে আবার নদীতে জাল নিয়ে নেমে পরছে জেলেরা। স্থানীয় জেলেদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, প্রকৃত কিছু জেলেরা সরকারের নির্দেশনা মতো ইলিশ শিকার বন্ধ রাখলেও বসে নেই অধিক মুনাফালোভী কতিপয় জেলেরা। তারা মা ইলিশ শিকার অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে এই ইলিশ শিকারের জন্য সঠিক সময় হিসাবে রাতকে বেছে নিয়েছেন জেলেরা। আর শিকার করা ৭০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ ৪০০-৪৫০টাকা কেজি এবং ছোট ইলিশ ২৫০-৩০০টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন জেলেরা।
সুজানগর উপজেলা মৎস্য অফিসার আব্দুল হালিম জানান, গত ৯ অক্টোবর থেকে ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করার জন্য উপজেলা প্রশাসন নদীতে টহল অব্যাহত রেখেছেন। ইতোমধ্যে অনেক জেলেকে আটক করে জেল জরিমানা করার পাশাপাশি কয়েক হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ইলিশ জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তবে ইলিশ প্রজনন মৌসুম সফল করার জন্য আগামি ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও মৎস্য কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন।
এ ব্যাপারে সুজানগরের পদ্মা নদীতে অভিযান পরিচালনাকারী সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিৎ দেবনাথ বলেন, প্রশাসনের টহলের ট্রলার দেখলেই নদীতে জাল ডুবিয়ে দ্রুত নৌকা নিয়ে পালিয়ে যায় জেলেরা। এরপরও এখন পর্যন্ত নদীতে ডুবন্ত অবস্থায় পেতে রাখা কয়েক লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করে তা অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি অনেক জেলেকে আটক করে জেল জরিমানা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মা ইলিশ নিধন বন্ধে স্ব-স্ব এলাকার জনপ্রতিনিধিরা স্থানীয় জেলেদের কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে একটু সচেতন করে তুললেই ইলিশ প্রজনন মৌসুম আরও সফল হবে।




No comments