ব্রেকিং নিউজ

আতঙ্ক নয় সচেতনতার মাধ্যমেই সম্ভব প্রতিরোধ। করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত কোন জিজ্ঞাসা থাকলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের “স্বাস্থ্য বাতায়ন” এ গ্রামীণফোন গ্রাহকরা ফ্রি কল করুন ১৬২৬৩ নম্বরে। -করোনা ভাইরাসের আপডেট জানতে এখানে ক্লিক করুন-

সুজানগরে প্রশাসনের ঝটিকা অভিযানে লবণের দাম স্বাভাবিক


এম এ আলিম রিপনঃ পেঁয়াজের ঝাঁজ কমতেই সুজানগরে লবণের দাম বেড়ে যাচ্ছে গুজব ছড়িয়ে পড়ে উপজেলাজুড়ে। এমন খবরে ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন খুচরা ও পাইকারি দোকানগুলোতে।

লবণের দাম বৃদ্ধির গুজবে মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুজিৎ দেবনাথের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী যৌথভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণে উপজেলার বিভিন্ন বাজারের ঝটিকা অভিযান চালালে সঙ্গে সঙ্গে বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসে।

 এ সময় বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালিয়ে ইউএনও  ব্যবসায়ীদের সর্তক করেন।  এবং জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান ।  এদিকে মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ লবণের দাম বাড়বে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে সুজানগর পৌর বাজার, সাগরকান্দি বাজার, বোনকোলা বাজার নাজিরগঞ্জ বাজার সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় । 

অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন এলাকাভিত্তিক ছোট-বড় দোকান গুলোর ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত লাভের আশায় লবণ বিক্রি বন্ধ করে দেয়। এতে করে গুজব আরো ডানা মেলে। আর এ গুজবের সূত্র ধরেই মূলত গ্রামের মানুষগুলো ছুটতে থাকে লবণ কেনার জন্য হাট-বাজারের লবণের দোকানগুলোতে। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরাও পেঁয়াজের মত লবণের দাম বৃদ্ধি করে। ১৫ (খোলা) থেকে ৩৫ (প্যাকেটজাত) টাকার টাকার লবণ ঘণ্টার ব্যবধানে দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে।

দুপুরে বাজার ঘুরে দেখা যায়, লবণ কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ক্রেতারা। এই সুযোগে অনেক লবণ ব্যবসায়ী বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দাম নিলেও কৌশলে রশিদে দাম লিখছেন না। ক্রেতাদের দাবি লবণের দাম বাড়তে যাচ্ছে এমন খবর শুনেছেন। তাই লবণ কিনতে এসেছেন তারা। তবে কোথায় এমন সংবাদ শুনেছেন এ কথা কেউ বলতে পারেননি।

সুজানগর পৌর বাজারের পাইকারি লবণ ব্যবসায়ী বাদশা বলেন, লবণের দাম বাড়ার গুজবে ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। একেকজন ২ থেকে ১০ বস্তা লবণ কিনছেন। তিনি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত  প্রায় ৬০০ বস্তা লবণ বাড়তি দামে নয় ন্যায্য দামেই বিক্রি করেছেন।

লবণ কিনতে আসা ফিরোজ রানা জানান, লোকেমুখে শুনছি লবণের দাম বেড়েছে। আগামীকাল থেকে আরো কয়েকগুণ বাড়তে পারে-এই আশঙ্কায় আজকে ৫ কেজি লবণ কিনে রাখছেন। কারণ পেঁয়াজের মতো লবণও সংকট দেখা দিতে পারে।

সুজানগর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহজাহান আলী বলেন ফেসবুকের মাধ্যমে যারা লবণের দাম নিয়ে গুজব ছড়াবে তাদের বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের আহ্বান জানান।

থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ বদরুদ্দোজা বলেন, এগুলো গুজব। কেউ গুজব সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুজিৎ দেবনাথ জানান, লবণের দাম বাড়েনি। এটা একটা গুজব। যারা এ গুজব রটাবে বা কৃত্রিম সংকট তৈরির জন্য মজুত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানান তিনি।
সুজানগর  বাজার বণিক সমিতির আহবায়ক ও পৌর মেয়র আলহাজ আব্দুল ওহাব বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে লবণের বাজার বৃদ্ধির কথা জানতে পারার সঙ্গে সঙ্গে বণিক সমিতির পক্ষ থেকে বাজার ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রি না করতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।  এবং আমি নিজেই মঙ্গলবার বাজারের গিয়ে এই গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সকল ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদেরকে বলেছি। 

সুজানগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাজার বণিক সমিতির যুগ্ন আহ্বায়ক শাহীনুজ্জামান শাহীন বলেন  উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যানদের লবণের বাজার নিয়ন্ত্রণে এবং জনগণকে লবণের মূল্য বৃদ্ধির গুজবে কান না দিতে মাইকিং করতে বলা হয়েছে। বর্তমানে লবণের বাজার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। কেউ বাজার মুল্যে চেয়ে বেশি নিলেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং সকল ক্রেতা ও খুচরা  বিক্রেতাকে গুজবে কান না দিয়ে ন্যায্যমূল্যে লবণ কেনা-বেচার পাশাপাশি কোনো পাইকারী ব্যবসায়ী লবণের অতিরিক্ত মূল্য দাবি করলে তার কাছ থেকে রশিদ নিয়ে ক্রেতাদের লবণ কেনার জন্য বলেন। সেই রশিদ দেখালে ওই  পাইকারী লবণ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলেও জানান সুজানগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন।

No comments

Powered by Blogger.