ব্রেকিং নিউজ

আতঙ্ক নয় সচেতনতার মাধ্যমেই সম্ভব প্রতিরোধ। করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত কোন জিজ্ঞাসা থাকলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের “স্বাস্থ্য বাতায়ন” এ গ্রামীণফোন গ্রাহকরা ফ্রি কল করুন ১৬২৬৩ নম্বরে। -করোনা ভাইরাসের আপডেট জানতে এখানে ক্লিক করুন-

সুজানগরে করোনার অজুহাতে চাল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি !


এম এ আলিম রিপনঃ সুজানগরে  করোনা ভাইরাসের অজুহাত দেখিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি করেছেন ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার বাজার ঘুরে চাল, ডাল, সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কেজি প্রতি ৫ টাকা থেকে ১৫ টাকা বৃদ্ধি করেছেন ব্যবসায়ীরা। পাইকারী বাজার ও ডিলাররা দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় খুচরা বাজারে দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবী করেছেন ব্যবসায়ীরা।

অপরদিকে করোনা ভাইরাসের কারণে কিছু ক্রেতা জিনিসপত্র মজুদ করার লক্ষ্যে অতিরিক্ত মালামাল ক্রয় করার সুযোগে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে ধারণা করেছেন স্থানীয়রা। ক্রেতাদের ভাষায়-এটা মহা ডাকাতি এবং লুটপাট। এমনটি কখনো মেনে নেওয়া যায়না। মাত্র দুদিনেই কেজি প্রতি চালের দাম বেড়েছে ৫-৭ টাকা। এই হিসেবে তা বস্তা প্রতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ শত টাকা। এভাবে শুধু চাল নয়; নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দামও এক লাফে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি- চাল হঠাৎ বিক্রি বেড়ে গেছে। আবার চালের সরবরাহও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্রেতারা বলছেন- খাদ্যশস্যের কোনো ঘাটতি নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটছে।

এদিকে চালের বাজারের হঠাৎ অস্থিরতা নিয়ে সুজানগরে ক্রেতাদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। চালের প্রচুর মজুদ থাকলেও হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় সবাই হতবাক হয়েছেন। ক্রেতারা বলছেন, এভাবে দিনের পর দিন লুটপাট চালানো হচ্ছে। এটা মহা ডাকাতি। দেশে কোনো ধরনের খাদ্য সংকট নেই। তবুও প্রতিটি পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনধারণ অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। শ্রী বিজন কুমার পাল নামক এক ক্রেতা বলেন, এভাবে দাম বাড়ার কোনো যুক্তি আছে কি? কিন্তু বাজারে তো কোনো জিনিসের অভাব নেই। তাহলে দাম বাড়বে কার স্বার্থে?  তাই এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন তিন। এছাড়া রসুন, চিনি ও প্যাকেট দুধেরও দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ২০টাকা।

স্থানীয় ব্যক্তি তোফাজ্জল হোসেন বলেন আমি একজন আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে বলতে চাই- দেশে এমনকি ঘটলো; চালের দাম বাড়াতে হবে। এটা মহা ডাকাতি এবং লুটপাট চলছে। একই ভাবে অন্যান্য জিনিষপত্রের দামও বেড়ে গেছে। এতে ক্রেতারা দিশেহারা। যারা চালের দাম বাড়িয়েছেন তাদের তালিকা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হউক। আসলে বাজার মনিটরিং না করায় এই পরিস্থিতি। এতে সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। আমি অবিলম্ভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক সুজানগরের প্রত্যেক চালের গুদামে অভিযান চাই। একইসঙ্গে যারা দাম বৃদ্ধির সাথে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। 

এ বিষয়ে সুজানগর বাজার বণিক সমিতির আহ্বায়ক ও পৌর মেয়র আলহাজ আব্দুল ওহাব এবং বাজার বণিক সমিতির যুগ্ন আহ্বায়ক ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন জানান ইতিমধ্যে ব্যবসায়ীদের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি  না করতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর ব্যাপারে আমরা বণিক সমিতির পক্ষ থেকে মনিটরিং করছি। এবং এই  বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।  স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা চাল সহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি   যারা  করছেন তাদের তালিকা তৈরী করে জড়িতদের অতি দ্রুতই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে জানান।

No comments

Powered by Blogger.