ব্রেকিং নিউজ

আতঙ্ক নয় সচেতনতার মাধ্যমেই সম্ভব প্রতিরোধ। করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত কোন জিজ্ঞাসা থাকলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের “স্বাস্থ্য বাতায়ন” এ গ্রামীণফোন গ্রাহকরা ফ্রি কল করুন ১৬২৬৩ নম্বরে। -করোনা ভাইরাসের আপডেট জানতে এখানে ক্লিক করুন-

সাতবাড়ীয়ার পাঁচ শতাধিক অসহায় পরিবার পেলো আমেরিকা প্রবাসী গাজী লিটনের খাদ্য সহায়তা

এম এ আলিম রিপনঃ করোনা ভাইরাস। এই নামটি বিশ্ববাসীর কাছেই মহা আতঙ্ক। লকডাউন কিংবা সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলছে দেশে দেশে। এজন্য বাসা-বাড়ী থেকে অনেকেই বাইরেও বের হচ্ছেন না। বর্তমানে আমেরিকাতে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর মিছিল ক্রমেই বড় হচ্ছে। তাছাড়া সেখানে প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে হাজার হাজার মানুষজন। আতঙ্ক যেন চারদিকে। হাহাকার আর কান্নাতো আছেই পাড়ায় পাড়ায়। আর এই আতঙ্কের মুহুর্তে মানুষের হাহাকার চলছে পাবনা জেলার সুজানগরেও। 

এমন সময়ে নাড়ির টানে সূদুর নিউইয়র্ক থেকেও সুজানগর উপজেলার সাতবাড়ীয়ার কর্মহীন অসচ্ছল মানুষের পাশে সহায়তার হাত বাড়িয়ে  দিলেন নিউইয়র্ক স্টেট স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সুজানগর উপজেলার সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের কৃতি সন্তান মোঃ ওহিদুজ্জামান (গাজী লিটন)। মোবাইল ফোনে তিনি যোগাযোগ রাখছেন মাতৃভূমি সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নের খেটে খাওয়া মানুষগুলোর সাথেও। 

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মহীন অসহায় মানুষদের পাশে থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে এবং বাংলাদেশ আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গূহ ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবুর নির্দেশে করোনায় উপার্জন না থাকায় অসহায় অবস্থায়  রয়েছে এমন সাতবাড়ীয়ার  শ্রমজীবী, খেটে খাওয়া, হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে মোঃ ওহিদুজ্জামান (গাজী লিটন) এর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।  

তার পক্ষে এ ত্রাণ সামগ্রী প্রতিটি অসহায় মানুষদের বাড়ী বাড়ী পৌঁছে দেন তার আপন ছোট ভাই সাতবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় বোনকোলা স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ কামরুজ্জামান দয়াল। 

মঙ্গলবার (০৫ মে) মানুষের মাঝে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে এ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পাবনা-২ আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ ফিরোজ কবির। 

এ সময় সুজানগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আলহাজ আব্দুল ওহাব, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন, সুজানগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) শাহজাহান আলী, পাবনা জেলা কৃষিবিদ এসোসিয়েশনের সভাপতি নুরুজ্জামান বটো, সুজানগর উপজেলা আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ইউনুস আলী বাদশা,  সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নের বিশিষ্ট সমাজ সেবক এস এম সাইফুল আলম বিপুল, সুজানগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ আলিম রিপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

বিতরণকৃত প্রতিটি প্যাকেটে ছিল চাল, আলু, তেল ও লবণ সহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী। স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, সাতবাড়ীয়ার সর্ব শ্রেণীর মানুষের  কাছে ব্যাপক পরিচিত নিউইয়র্ক প্রবাসী মোঃ ওহিদুজ্জামান (গাজী লিটন)। তিনি স্থানীয় বিভিন্ন  সামাজিক ও ধর্মীয়  প্রতিষ্ঠানের  অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। নিঃস্বার্থভাবে সাতবাড়ীয়া ব্যাপী আত্মমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন বহু বছর। তিনি আওয়ামী লীগ পরিবারের একজন সক্রিয় সদস্য। তবুও মানুষের উপকারের সময় সব দলের লোককে সমানভাবে দেখেন তিনি। তাইতো দূর্যোগকালীন এই সময়েও সাতবাড়ীয়ার অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এজন্য তাঁর প্রতি মানুষের আস্থার জায়গাও অনেক উঁচু।  এছাড়া নগদ অর্থ পাঠিয়েছেন আবার সেই অর্থ স্বজনদের মাধ্যমে অতি গোপনে স্থানীয় বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী অসহায় মানুষের বাড়ীতে বাড়ীতে পৌঁছে দিচ্ছেন। আর এই নগদ টাকা ও খাদ্য সহায়তা পেয়ে গরীব এবং নিম্ম মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা অনেক খুশি।
 
স্থানীয় এলাকার কামাল হোসেন নামক এক ব্যক্তি বলেন, আমাদের এলাকার বহু মানুষ প্রবাসে থাকেন। কিন্তু এই প্রবাসীরা মানুষের বিপদে সাহায্য করেন না। গাজী লিটনের মতো উন্নত রাষ্ট্রে বসবাসকারী সবাই একযোগে হতদরিদ্রদের সহযোগিতা করলে কেউ গরীব থাকবেন না। 

তাছাড়া গাজী লিটন স্থানীয় এলাকার গরীব মেয়েদের বিয়ে, যুবকদের বিদেশ যাত্রা, চিকিৎসা, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, কিংবা চাকুরীতে যোগদানের সময় সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন। স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং সামাজিক সংগঠনেও আর্থিক অনুদান দিয়ে তৃপ্তিবোধ করেন। মানুষের সাথে ব্যবহারেও তাঁর অহংকার নেই। নিজ দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও আত্মীয়-স্বজনরা এজন্য তাঁকে ভালবাসেন। দেশের মানুষের কল্যাণে ভাল ভাল কাজ করতে চান তিনি। তাইতো নিউইয়র্কে ব্যস্ত থাকার পরেও সবসময় খোঁজ খবর রাখেন নিজ এলাকার মানুষদের। 

সূত্র জানায়, কয়েক বছর পরপরই নিউইয়র্ক থেকে দেশে আসেন তিনি। মানুষের বিপদে ছুটে যাওয়া যেন গাজী লিটনের এক ধরণের নেশা। ছাত্রজীবন থেকে এই পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গসংগঠনের সাথে তিনি সম্পৃক্ত আছেন। এজন্য তার সহ তার পরিবারের উপর মামলা-হামলাও হয়েছে বহুবার। 

সাতবাড়ীয়ার সামাজিক প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের সাথে তিনি সক্রিয়ভাবে জড়িত আছেন। মিষ্টি ভাষার অধিকারী গাজী লিটন। সুজানগরের অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসে থেকেও এলাকায় একজন সফল সমাজসেবক হিসেবে তিনি খ্যাতি পেয়েছেন। এবং রাজনীতির অর্থ মানুষকে ভালবাসা দেওয়া ও নেওয়া-এটার উদাহরণও তিনিই সৃষ্টি করেছেন। কারণ; তাঁর মধ্যে কোনো লোভ-হিংসা নেই। তবে আজীবন তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন বলে জানা গেছে।

মুঠোফোনে গাজী লিটন বলেন, আল্লাহ তৌফিক এবং সুযোগ দেওয়ায় অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি। ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। আর এ জন্য সকলের নিকট দোয়া চেয়েছেন তিনি।
 
উল্লেখ্য গাজী লিটনের  পিতা মরহুম প্রয়াত আব্দুল জব্বারও অভাবী মানুষদের প্রিয় ছিলেন। সমাজসেবায় ছিলেন নিবেদিত।

No comments

Powered by Blogger.