ব্রেকিং নিউজ

আতঙ্ক নয় সচেতনতার মাধ্যমেই সম্ভব প্রতিরোধ। করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত কোন জিজ্ঞাসা থাকলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের “স্বাস্থ্য বাতায়ন” এ গ্রামীণফোন গ্রাহকরা ফ্রি কল করুন ১৬২৬৩ নম্বরে। -করোনা ভাইরাসের আপডেট জানতে এখানে ক্লিক করুন-

সুজানগরে স্কুল শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম হাফেজ আব্দুর রাজ্জাকের রহস্যজনক মৃত্যু


এম এ আলিম রিপনঃ  সুজানগর পৌর সদরে অবস্থিত আল এহসান একাডেমি নামক এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং পৌরসভার নিউগিরবনগ্রাম দক্ষিণপাড়া মসজিদের ইমাম হাফেজ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক (৩২) এর  রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ভোর রাত সাড়ে পাঁচটার দিকে সুজানগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন ঘুমন্ত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া হাফেজ আব্দুর রাজ্জাক উপজেলার দুলাই ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর গ্রামের মৃত ছগির প্রাং এর ছেলে। 

সুজানগর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ রকি জানান শুক্রবার রাত দশটার দিকে ডায়রিয়া ও বমি হওয়ায় আব্দুর রাজ্জাক হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে ভোর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আব্দুর রাজ্জাকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে দাবি করে  সুজানগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তার ভাই মমিন প্রাং। 

লিখিত অভিযোগে জানা যায় আব্দুর রাজ্জাক গত প্রায় ২ বছর আগে বিয়ে করে স্ত্রী সাথী খাতুন কে নিয়ে পৌরসভার নিউগির বনগ্রাম গ্রামের মোহাম্মদ আলী মদনার বাড়ীতে ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করে আল এহসান একাডেমিতে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি স্থানীয় মসজিদের ইমাম হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এরই মধ্যে উক্ত বাসার মালিক উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোহাম্মদ আলী মদনার ছেলে মামুনের রুম থেকে গত ১৯-০৮-২০১৯ তারিখে তিন লাখ টাকা চুরি হয়। সেই কারণে আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী সাথী খাতুন কে দোষারোপ করতে থাকে মামুন। এ নিয়ে আব্দুর রাজ্জাক ও তার স্ত্রীর উপর মানসিক চাপ প্রয়োগ করতে থাকে তারা। এর মধ্যে গত শুক্রবার দুপুরে মামুন একজন কবিরাজ নিয়ে আসে। উক্ত কবিরাজ গুড় (মিঠাই) ঝারা ফুক দিয়ে আব্দুর রাজ্জাককে খাওয়ায় এরপর মসজিদে আসর ও মাগরিব আদায় করার পর বমি ও পাতলা পায়খানা হলে অসুস্থ অবস্থায় তাকে এদিন রাতে সুজানগর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যু হয়। 

এ বিষয়ে মামুন জানায় তার টাকা হারিয়ে যাওয়ার পর একসঙ্গে এ গুড় প্রায় ১৬ জন ব্যক্তি খেয়েছে তাদের কোন সমস্যা হয়নি। এ বিষয়ে সুজানগর থানা অফিসার ইনচার্জ শরিফুল আলম জানান মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আর ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলেই জানা যাবে স্বাভাবিক মৃত্যু না কোন অজানা খাদ্য বিষক্রিয়ায় আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যু হয়েছে। 

এদিকে একজন ভাল হুজুর হিসাবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন হাফেজ আব্দুর রাজ্জাক। তাই তার এই মৃত্যু যেন কোনভাবেই মেনে নিতে পাছেননা বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থী, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী। তাই তারা হাফেজ  আব্দুর রাজ্জাকের এই  মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য  যেন অতিদ্রুত উদঘাটন করা  হয় এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

1 comment:

  1. অবিলম্বে পরিকল্পিত হত্যাকারীদেরকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেয়া হোক

    ReplyDelete

Powered by Blogger.