সুজানগরে শীতের পিঠা বিক্রির ধুম
এম এ আলিম রিপনঃ সুজানগর উপজেলার ফুটপাতের দোকানগুলোতে শীতের পিঠা বিক্রির ধুম পড়েছে। শীতের সন্ধ্যায় পিঠাপুলি এ এলাকার মানুষদের কাছে একটি প্রিয় মুখরোচক খাবার। তাই শীতের দিনে ফুটপাতের দোকানের চিত্রও পাল্টে যায়।
ক্রেতাদের চাহিদাকে বিবেচনায় রেখে পিঠা বিক্রেতারাও খাবার মেনু পাল্টান। শীতকালে বিশেষ করে অন্যসব পিঠার মধ্যে জনপ্রিয় পিঠার নাম হলো ’ভাপা পিঠা’। চাউলের গুড়ো আর পাঁটালি গুড় দিয়ে স্বুস্বাদু এই পিঠা তৈরি করা হয়। শীতের সকালে ভাপা পিঠার সাথে অন্য কোনো পিঠার তুলনা চলে না।
প্রতিদিন ভোর থেকেই পিঠা তৈরির কার্যক্রম শুরু হয়। সূর্য ওঠার আগ থেকে শুরু করে সকাল ১০টা পর্যন্ত এবং বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পিঠা তৈরি করে বিক্রি করতে দেখা যায় বিক্রেতাদের। আব্দুল মমিন নামে ভাঁয়না গ্রামের একজন পিঠা বিক্রেতা জানান, প্রতিদিন তার দুই বেলা মিলিয়ে প্রায় ২০ কেজি চাউলের গুড়া এবং প্রয়োজন হয় পাঁটালি গুড়ের। দুই ধরনের চাল দিয়ে পিঠা তৈরি হয়। সাদা এবং লাল। তবে গুড় মেশানো পিঠার চাহিদাই বেশি। পিঠার দাম পাঁচ থেকে দশ টাকা। পুরো শীতের মৌসুমেই চলবে এই পিঠা বিক্রি বলেও জানান তিনি।
সুজানগর পৌর শহর সহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনসমাগম স্থানে বসেছে এমন পিঠাপুলির দোকান। মূলত ফুটপাতজুড়ে রয়েছে শীতের আগমন বার্তা। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়ার আগেই পিঠা বিক্রেতারা সাজিয়ে ফেলেন দোকান। সন্ধ্যার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের সামনেই তৈরি করা গরম পিঠাপুলি পরিবেশন করছেন বিক্রেতারা। প্রায় প্রতিটি দোকানেই সন্ধ্যার পরে ক্রেতা সাধারণের ভিড় বেড়ে যায়। আর এভাবে পিঠাপুলি বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন ফুটপাতের মৌসুমি অনেক ব্যবসায়ী।
পিঠাপুলি বিক্রেতা মোতালেব হোসেন জানান, চলতি সময়ে হাতে কাজ নেই। শীত এসেছে তাই সংসারের খরচ মিটাতে ফুটপাতে পিঠার দোকান দিয়েছেন। দিনভর বাড়িতে চালের আটাসহ পিঠা তৈরি নানান সরঞ্জাম প্রস্তুত করে বিকালে দোকান চালু করেন। সেখানে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী তাদের সামনে গরম গরম ভাপা, চিতাই সহ বিভিন্ন ধরণের পিঠা বিক্রি করেন।




No comments